দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল। এ সময়ে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ১ শতাংশের বেশি পয়েন্ট হারিয়েছে। আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের নিম্নমুখিতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫৫ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪ হাজার ৯৭৩ পয়েন্ট। এছাড়া গত সপ্তাহে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ২২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮২৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৮৪৫ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ১১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ১০৫ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৩৯৪টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৮টির, কমেছে ১৯৯টির, অপরিবর্তিত ছিল ৩৭টির আর লেনদেন হয়নি ১৯টির।
গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি), পাওয়ার গ্রিড, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ার। ডিএসইতে গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসে মোট ১ হাজার ৪১০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে ওষুধ ও রসায়ন খাতের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৮১ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ দখলে নিয়েছে ব্যাংক খাত। ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। এছাড়া ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত। আর পঞ্চম স্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে কাগজ ও মুদ্রণ খাতের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এছাড়া সিরামিক খাতে দশমিক ৯৫ শতাংশ, বস্ত্র খাতের শেয়ারে দশমিক ৬১ ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে দশমিক ৬১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে গত সপ্তাহে টেলিযোগাযোগ খাতে সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এরপর সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক রিটার্ন ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ৩ দশমিক ২৭, সেবা ও আবাসন খাতে ২ দশমিক ৮৭ এবং জীবন বীমা খাতে ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কমে ১৩ হাজার ৮০৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৩ হাজার ৯৫৭ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচক গত সপ্তাহ শেষে ১ দশমিক ১৩ শতাংশ কমে ৮ হাজার ৪২৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৮ হাজার ৫২৫ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ৬৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩০৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১১১টির, কমেছে ১৭২টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৫টির বাজারদর।